রাজশাহী অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজশাহী।
রবিবার (১ মার্চ) রাজশাহীর ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি দলটি জেলা প্রশাসকের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে জননিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
স্মারকলিপিতে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রধানত তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:
১. নিষিদ্ধ সংগঠনের আসামিদের পুনরায় আইনের আওতায় আনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুরুতর অপরাধে জড়িত এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন 'আওয়ামী লীগ'-এর যেসব আসামি জামিনে মুক্তি পাচ্ছে, তাদের নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব আসামিরা মুক্ত থাকলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে এবং পুনরায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের অন্য মামলায় পুনরায় আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
২. অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধ
স্বৈরাচারী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন জায়গায় আবারও অফিস খোলার চেষ্টা ও অবরোধ করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমনের আহ্বান জানানো হয়।
৩. নারী ও শিশু নির্যাতনে জিরো টলারেন্স
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্র নেতারা বলেন, এসব অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাজশাহীর আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু বলেন, "রাজশাহীর শান্তিপ্রিয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি বৈষম্যহীন নিরাপদ সমাজ গড়তে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা কাম্য। আমরা আশা করি প্রশাসন জনস্বার্থে আমাদের এই প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।"
স্মারকলিপি প্রদান ও সাক্ষাৎকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহীর সদস্য সচিব আঞ্জুমান আরা হক আরশি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাফ্ফাত আহমেদ তিতাস, সিনিয়র সংগঠক মোখলেসুর রহমান বিজয়, মুখ পাত্র আজিম।
আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সদস্য সচিব তানভির হোসেন রৌনক, যুগ্ম সদস্য সচিব ইমন রাজ, মিডিয়া সেলের সদস্য হাসান আল মামুন , বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি তানভির মহতাব।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।